তুমি আছো তাই

(পর্ব-১১)



-কিরে অহন,,তুই কাঁদছিস কেন??(মীরা ঘাবড়ে গিয়ে বললো)

-...............

-কিরে চুপ করে আছিস কেন?? বল না।

-মীর বাঁচা আমাকে।প্লিজ হেল্প মি😭

-কেন কি হয়েছে??

-প্লিজ হেল্প মীর

-আরে বলবি তো কি হয়েছে।কান্না থামা।আমি বলছি কান্না থামা।রিলেক্স।শান্ত হয়ে বল কি হয়েছে।

-মীর শুভ আমাকে ব্লেকমেইল করছে।

-ও হঠাৎ করে আবার কোথা থেকে উড়ে এলো??আর ব্লেকমেইল করছে মানে??কি করেছে বেয়াদবটা??😡

-মীর তুই তো জানিস যে বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছে।ছেলে খুব ভালো।এতোদিন তো শুভর খবর ছিলো না বল??ও নিজেই তো আমাকে ছেড়ে চলে গেছিলো।রিলেশনটা রাখার জন্য কতো হাত জোড় করেছি ওর কাছে।ও শুনেনি।
জানি না কিভাবে শুনেছে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে।ও খোঁজ নিয়ে জেনেছে আমার হবু শশুরবাড়ির লোকজনের ভালো পয়সা আছে।এখন ও বলছে আমার উডবির কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এনে ওকে দেয়ার জন্য।নইলে নাকি আমাদের রিলেশনের কথা আর ওর সাথে যে নিলাচল ঘুরতে গেছিলাম সেসব কথা ওই বাড়িতে জানিয়ে দিবে।মীর এসব বললে আমার বাবার সম্মানের কি হবে??

-এসব তোর আগেই ভাবা উচিৎ ছিলো।অনেক বারণ করেছিলাম।শুনিসনি।আচ্ছা টেনশন নিস না।আমি আছি তো।নিলয়কে বলে দেখি।বেটার টাকা নেওয়া বুঝাচ্ছি।

-হুম মীর গুড আইডিয়া।নিলয় ভাইয়াকে একটু বল।ভাইয়া নিশ্চয়ই কিছু একটা করবে।

-ঠিক আছে।তুই কান্না থামা।আমি দেখছি।

-আচ্ছা।

মীরা নিলয়কে সবকথা খুলে বললো।শুনে রাগে নিলয়ের শরীর ফেটে যাওয়ার মতো অবস্থা।

-মীরা তুমি অহনাকে টেনশন ফ্রি থাকতে বলো।ওই শালাকে আমি দেখছি।

-যা করবে সাবধানে করবে।মনে রেখো এটার সাথে অহন আর ওর পরিবারের সম্মান জড়িয়ে আছে।

-হুম।তুমি আমার উপর সব ছেড়ে দাও।

-ঠিক আছে।

তার ঠিক ১০দিন পর অহনা না জানিয়েই মীরার বাসায়

-আসসালামুয়াইকুম আংকেল,,মীরা বাসায় আছে??

-আরে অহনা মা যে,,ওয়ালাইকুমুসসালাম।হুম মীরা তো ওর ঘরেই।ডেকে দিবো??

-না আংকেল আপনাকে কষ্ট করতে হবে না।আমিই যাচ্ছি।

-আচ্ছা।তা তোমার বাসার সবাই ভালো আছে তো??

-জি,,সবাই ভালো আছে।

-ঠিক আছে তুমি মীরার কাছে যাও।আমি একটু বাইরে যাচ্ছি।খেয়ে যেও।

-ঠিক আছে আংকেল।

-নক নক নক,রুমে কেউ আছে??

-আরে অহন তুই??হঠাৎ এই সময়??

-কেন রে??আসা বারণ বুঝি??

-আরে না না।আয় বস।তা ব্যপারটা কি।লুকিং খুশি খুশি🤨

-তুই শুনলেও খুশি হবি।

-তাই না কি।তাহলে তাড়াতাড়ি বল😃
(মীরা বিছানার উপর হাত-পা গুছিয়ে গালে হাত দিয়ে বসে পড়লো)

-আমার প্রব্লেম সল্ভ।😇

-মানে,কবে,কিভাবে?????😃😃

-নিলয় ভাইয়াকে কল দে।উনিই বলুক😊।

-আচ্ছা দাড়া

মীরা সাথে সাথেই নিলয়কে কল দিলো।প্রথমবার কল টা বাজতে বাজতে কেটে গেলো।পরের বার নিলয় কল ধরলো।

-হ্যালো মীর,বলো।সরি আমি ফোনের কাছে ছিলাম না।

-ইটস ওকে নিল।আচ্ছা অহনার ব্যপারটা কি হলো বলো তো।

-ওহ ওইটা??ওইটা তো মিটে গেছে।

-বাট কেমনে কি??আমি যতদূর জানি শুভ খুবই বাজে একটা ছেলে।কিভাবে মানালে ওকে??

-মানাবো মানে??ও কি আমার শালা না শশুড় যে ওকে আমি মানাতে যাবো??অন্য কায়দা এপ্লাই করেছি ম্যাডাম😁

-অন্য কায়দা??কি সেটা??

-ব্লেকমেইল😎

-মানে??😲

-তোমার থেকে ছবি আর ঠিকানা নিয়ে আমি আর পালক কিছুদিন ধরেই শালাকে ফলো করছিলাম।ওর ব্যপারে কিছু খবরও নিয়েছি।তখন জানতে পেরেছি যে ও আরো এক বড়লোকের মেয়েকে মুরগি বানাচ্ছে।
ব্যস্,দ্যাট ওয়াজ অ্যা গুড চান্স ফর আস।কিছুদিন ফলো করেই বুঝেছি শালা প্রায়ই ওই মেয়েকে নিয়ে এদিকে ওদিকে যায়।একদিন আমি আর পালক ভালো ভাবে শালার পিছু নিলাম।বেটা মেয়েটাকে নিয়ে এক পার্কের চিপায় গিয়ে বসেছে।তুমি তো জানই আমার ফোনের ক্যামেরাটা মাশাল্লাহ অনেক ভালো 😂ওদের সিনেমা ভিডিও করলাম।ওরা অফ স্ক্রিনে আসার পর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।বেচারা থতমত খেয়ে গিয়েছিলো।

-তারপর??

-তারপর আর কি,,আমি আর পালক তাকে ভালো করে শাল্টিং দিলাম।মেয়েটাকেও ভয় দেখালাম।ভিডিওটা জায়গা মতো শো করার কথা বললাম।পরে বেটা বাপ বাপ করে মাফ চাইলো।বলেছি অহনাকে সেকেন্ড টাইম কিছু বললে বা যোগাযোগের চেষ্টা করলে ওকে ফেমাস বানিয়ে দিবো।

নিলয়ের কথা শুনে মীরা হাসতে হাসতে ফিট।

-সত্যি তুমি পারোও বটে।আমি তো খুব টেনশনে ছিলাম।।ভেবেছি হয়তো খুব কঠিন হবে ব্যপারটা।

-আপনি হুকুম করলে আমার জন্য কিছুই কঠিন নয় ম্যাডাম😎

-হয়েছে হয়েছে ঢং করতে হবেনা😏

-এতো বড় একটা কাজ করলাম।কুছ তো ইনাম দেনা পাড়েগা ম্যাডাম

-ইনাম??কি চাও??

-বলি??

-কিছু বলতে হবেনা।অহন আমার সামনে আছে।(মীরা কাশতে কাশতে বললো)

-ওহ,শালিকা সামনে আছে নাকি??দাও তো।

-এই নে অহন,,তোর সাথে কথা বলবে।

-হ্যাঁ ভাইয়া বলো।

-কি গো শালিকা কেমন আছো??

-আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি ভাইয়া।অনেক অনেক থ্যাংক্স।অনেক বড় উপকার করলে তুমি আমার।

-আচ্ছা আচ্ছা আর থ্যাংক্স লাগবে না।কালকে রাত থেকে তো থ্যাংক্স দিয়েই যাচ্ছো।তবে একটা কথা বলি তোমাকে।ভালোবাসা তো সবার জীবনেই আসে।কিন্তু ভালো মানুষ সবসময় আসেনা।তাই কারো সাথে নিজেকে জড়ানোর আগে তাকে যাচাই করে নিবে।ভুল ভাল ব্যাংকে আবেগ জমা দিবে না।নইলে আসলটাই হারাবে।বুঝলে??

-জি ভাইয়া বুঝেছি।তা আমাকে তো বাঁচিয়ে দিলেন।আপনাদেরটা কবে হচ্ছে??

-হবে হবে খুব তাড়াতাড়ি হবে।

-আমার বিয়ের আগে হবে তো??

-নাহ।মীরা ম্যাডামের বিয়ের মর্জি জাগুক আগে।

-আচ্ছা ঠিক আছে।শুভকামনা রইলো।

কিছুদিনের মধ্যেই অহনার বিয়েটা ভালোয় ভালোয় মিটে গেলো।মীরা আর নিলয় দাঁড়িয়ে থেকে অহনার বিয়ে দেখেছে।তার মধ্যে নিলয় শুধু বারবার মীরাকে খোঁচাচ্ছিলো।অহনার দিকে দেখিয়ে মীরাকে বারবার বলছিলো সে কবে বউ সাজবে।

এর মাঝে নিলয় তার বাবার ব্যবসা দেখা শুরু করলো।বাপ ছেলে মিলে ভালোই এগিয়েছে।তারমধ্যেই একদিন সন্ধ্যায়.......


Post a Comment

Give your opinion, please!

নবীনতর পূর্বতন