মেঘ-মিলন ।। পর্ব-৯
পুরনো একটা বাড়ি। দেখেই বুঝা যাচ্ছে বেশ কয়েক বছর ধরে কেউ থাকে না এই বাড়িতে। গাছের পাতার কয়েক ধাপের স্তর পড়ে আছে উঠুনে। বাড়ির চারোপাশে গাছগাছালি।সব মিলিয়ে একটা ভূতেরে পরিবেশ।
--গালিব তুই সিউর এই বাড়িটা?
--হুম। এসআই তো এই বাড়ির কথাই বললো।
--আচ্ছা লোকালয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করি মানুষের কাছে। সিউর হয়ে নেই।
--ওকে।
একটা বৃদ্ধ বয়সের লোক রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো। গাড়ি থেকে নেমে লোকটিকে বললাম,
--আসসালামু অলাইকুম চাচা?
--অলাইকুম আসসালাম।
--চাচা ঐ যে সামনের পরিত্যক্ত বাড়িটি আছে না। সেটা কি আপনাদের এমপি সাহেবার সাবেক পিএস এর?
--হুম।
--চাচা ঐ বাড়ির মানুষজন কোথায়?
--তোমরা কারা?
--চাচা আমরা ডিবি পুলিশ। ওনার মৃত্যুর কেইসটা আবার কে যেন ওপেন করেছে।
--তোমরা যারাই হও,ঐ বাড়িতে যেও না। ঐ বাড়ির চারোপাশে করিমের আত্মা ঘুরাফেরা করে।
--আপনারা দেখেছেন?
-- আমি দেখি নাই।কিন্তু গ্রামের অনেক মানুষে দেখেছে।
--কবে দেখেছে?
--করিমের মৃত্যুর পর পরই মানুষ দেখেছে। ভয়ে ওর পরিবার গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে গেছে।
--লাস্ট কবে করিমের আত্মা দেখেছে গ্রাম বাসি?
--করিম মারা যাওয়ার ১ সপ্তাহ পর পর্যন্ত দেখছে।তারপর গ্রাম বাসি আর সেখানে যায়নি ভয়ে।
-- ধন্যবাদ।
--কি সুন্দর প্লেন করেছে দেখেছিস? আমার মনে হয় করিমের বাড়িতে এমন কোনো তথ্য ছিলো যা খুঁনের প্রমান হিসেবে বহন করে। কিন্তু খুঁনি সেটা সংগ্রহ করতে পারেনি। তাই ভূতের গল্প সাজিয়ে মানুষ জনের চলাচল বন্ধ করেছে। যেন কেউ না যেতে পারে।
--মেঘ আমার মনে হচ্ছে এই বাড়িতে তল্লাশি দেওয়ার আগেই মহিলাটির বাড়িতে যাওয়া উচিত।
--হুমম।আগে দেখতে হবে পরিস্থিতি কি রকম।
এখান থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে পিএ এর বাড়ি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় সেই একই ঘটনা এই বাড়িতেও। লোকজন বলছে মহিলাটির আত্মা নাকি এই বাড়ির আশেপাশে ঘুরে বেড়ায়।
আর তার পরিবার এই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্রে চলে গেছে। দুই যায়গা একই গল্প।
--গালিব চল দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করি?
--তাই করতে হবে।
একটা ইট দিয়ে তালা ভেঙ্গে ফেললাম। ভিতরটা বেশ অন্ধকার। চামচিকায় ভরাপুর পুরো ঘরটা। ঘরটা এল সাইজ সিস্টেম।উপরের টিনের ছাঁদ। হাফ বিল্ডিং যাকে বলে। মোবাইলের ফ্লাশ জালিয়ে ঘরের জানালা গুলো খুলে দিলাম।। চাঁমচিকার বৃষ্ঠার গন্ধ পুরো রুমে।
গালিব বললো,
--এই দুই হত্যা কান্ডের মাঝে কিছু জিনিস উতপ্রেত ভাবে জরিয়ে আছে। তা না হলে দুই যায়গায় একই স্টরি সেট করবে কেন?
--আমি কখন থেকে সেটাই ভাবছি।আচ্ছা চল তল্লাসি করি।
জানালা খুলাতে বেশ আলোকিত হলো ঘরটা। আমার উদ্দেশ্য সেই নোটবইটি খুঁজে বের করা।
১ ঘন্টা খুঁজাখুঁজি করে শুধু একটা জিনিস সংগ্রহ করলাম। সেটা হলো একটা মোবাইল। স্যামসাং গ্যালাক্সি জে মডেলের একটা মোবাইল। ব্যাটারি নেই। ডিসপ্লেও বোধহয় নেই।
বোঝা যাচ্ছে কেউ মোবাইলটি দেয়ালের সাথে ছুড়ে মেরেছিলো। ভালো অর্জিনাল মোবাইল হওয়া সেট নষ্ট হয়নি বোধহয়। কিন্তু ডিসপ্লেটা চলে গেছে। এটাই কাজে আসবে। সব থেকে ভালো হতো দুই পরিবারের কোনো সদস্যদের সাথে কথা বলতে পারলে।
--গালিব?
--হুমম। কাল সকালে ঢাকা যেতে হবে।
--আমারো তাই মনে হচ্ছে। ঢাকা গিয়ে তোদের বাড়িটা পর্যবেক্ষন করা উচিৎ। বাড়িতো পর্যবেক্ষন করবো। তার আগে আর একটু কাজ করতে হবে।
--আবার কি কাজ?
--তুই যেভাই পারিস আম্মুর দুই বছর আগের নোটবুকটা আমাকে সংগ্রহ করে দিবি। ওই বাড়িতে পাইনি।
--আমার দ্বারাও রিক্স হয়ে যাবে পুরো বিষয়টা।তন্ময়কে দিয়ে সঠিক করানো যাবে।
--রাইট।
বাড়িতে চলে আসলাম। পুরো বাড়িতে থম থমে পরিবেশ। সবাই ইতিমধ্যে আতঙ্কিত। বাড়ির চারোপাশে পুলিশ। এমপি সাহেবের বাড়িতে এটাক হয়েছে বলে কথা।
প্রমাকে মেসেজ দিলাম আমার সাথে ইমিডিয়েটলি ছাঁদে দেখা করতে। সে অলরেডি আসতেছে।
বিকেল বেলা ছাঁদের পরিবেশটাই অন্যরকম।বেশ মুগ্ধকর পরিবেশ। প্রমার কাছেও অনেক রহস্য রয়ে গেছে। যেভাবেই হোক আমাকে জানতে।
--জরুরি তলব?
--আমি চলে যাচ্ছি।
--মেঘা জানে?
--না।
--আমরাও তো কাল দুপুরে ঢাকা চলে যাবো। ছুটি শেষ।
--সকালে চলো?
--ঠিক আছে, আপনার জন্য না হয় একটু সেক্টিভাইস করলাম ।
--আমার জন্য এবার তাহলে কষ্ট করে তোমার পেটের ভিতর লুকিয়ে থাকা রহস্য গুলো বলে ফেলো।
--হি,হি, বলবো না।
--থাক বলা লাগবেও না। আমার এতো সখ নেই জানার। চললাম।
--এই না, না, আপনাকে জানতে হবে৷ আমার প্রয়োজনে হলেও জানতে হবে।
--ঠিক আছে শুনি।
--আমি স্কুল লাইফ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ঢাকায় হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করছি। ফুফার মৃত্যু ৬ মাস আগে আমাকে ফুফু আপনাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেদিন বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। ফুফু গেইটের সামনে গাড়ি থামিয়ে আমাকে গাড়িতে বসিয়ে তিনি ভিতরে যায়। আবার ১০ মিনিট পর চলে আসে। আমি সেদিন ঠিকানাটা জেনে রেখেছিলাম। তার ছয় মাস পর ফুফার মৃত্যু হয়। সেদিন গালিব ভাই আমাকে ফোন দিয়ে জানায় ফুফার মৃত্যু হয়েছে। তার ৫ মিনিট পর আব্বু ফোন করে বলে আমি যেন সেখানে না যাই। যেহেতু আমি ঢাকায় ছিলাম, তাই কাউকে না জানিয়ে আপনাদের বাড়িতে যাই। আমি সেদিন অনেক কষ্টে ফুফার লাশ দেখেছিলাম।সেটা যে মার্ডার ছিলো সেটা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছিলো। কিন্তু মানুষ সেটা নিয়ে সিরিয়াস না হয়ে স্বাভাবিক নিয়মে মাটি দিয়ে দেয়। সেদিন আপনাদের পুরো বাড়ি ঘুরেছি।ফুফার বালিশের নিচে আপনার একটা ছবি দেখেছিলাম।তারপর আমি ছবিটা নিয়ে চলে আসি। কিন্তু আপনার সাথে কন্ট্রাক করার কোনো কিছুই পাচ্ছিলাম না।তারপর মেঘ চৌধুরী দিয়ে ফেইসবুকে সার্চ করি। কত হাজার মেঘ এসেছে। কিন্তু আপনাকে খুঁজে পেলাম না।।
তারপর একদিন আমাদের কলেজে একটা অনুষ্ঠানে আপনার সাইন্টিস্ট বন্ধু আনাস স্যার আসে। তখনো জানতাম না সে আপনার বন্ধু। আমরা অনলাইনে ক্লাস করার জন্য তার ফেইসবুক পেইজ সংগ্রহ করি। তার পেইজের কভার ফটোতে তার ছবির সাথে আপনার ছবি দেখে চমকে গিয়েছিলাম। তারপর ওনার সাথে পার্সোনালি কথা বলি।আপনার সম্পর্কে জানি। তিনিও আমার থেকে আমাদের বাড়ি সম্পর্কে তথ্য নিতেন।।
--এটা তাহলে কথা? তাইতো বলি আনাস এতো কিছু জানে কি করে? আচ্ছা ঠিক আছে তুমি এখন যাও।
--কিছু শেষ হয়নি। আমি আপনার বন্ধুকে পছন্দ করি।কিন্তু বলার মতো এক বিন্দু সাহস পাচ্ছি না।
--ও তোমার থেকে বয়সে বড়।
--ও্হ্। আপনি যে মেঘার সাথে প্রেম করেন সে তো আমার সমবয়সী। আর আপনিও তো আপনার বন্ধুর বয়সী।
--দেখো আমার বেলায় আলাদা।
--এখন নিজের বেলায় আলাদা। আপনি হেল্প করবেন কিনা বলেন?না হয় আমি ফুপিকে বলে দিবো
--এই, না না।আমি করবো।
--মনে থাকে যেন।
--ওকে।
প্রমা চলে গেলো। আমি বড় করে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লাম। মীরাক্কেল বসত কত কিছু হতে পারে। প্রমার কাহিনিতো আরো অদ্ভুত। কিন্তু চিন্তার বিষয় হলো আম্মু, আব্বুর মৃত্যুর ছয় মাস আগেও একবার গিয়েছিলো আমাদের বাড়িতে। কেন গিয়েছিলো সেটা জানতে পারলেই হলো। আগে ঢাকায় যাই। তাহলে কিছু হলেও জানতে পারবো।
প্রমা সামনের সিটে বসে আছে, আমি আর মেঘা এক সিটে। গালিবকে সাথে নেইনি। কারন ঐদিকটাও দেখার প্রয়োজন আছে। আবার সে নব বিবাহিত। তরীকে সময় দিক।তন্ময়কে দিয়ে এসেছি অভিনয় করতে ।
মেঘা বললো,
--পরশো থেকে এক্সাম শুরু হবে। ১মাস পর্যন্ত চলবে।
--ভালোতো।
--ভালো না ছাই? ভাইয়া বলেছে পরিক্ষার পর পরই বিয়ের কাজ শেষ করবে।
--বুড়োর কি আর তর সইছে না?
--কি জানি? বেটা বুইড়া কালে ভিমরতি ধরেছে বিয়ে করার জন্য।
--বিয়ের দাওয়াত দিও।
--এই কিছুদিনের মধ্যে কিছু না করতে পারলে অবশ্য সেটাই করতে হবে।
--মোবাইলে দাওয়াত গ্রহন যোগ্য নয়।কার্ডে দিতে হবে।।
--খুব সখ বিয়ে খাওয়ার।
--হ,
আমাকে দেখে হারুন চাচা চমকে উঠলো।এতো বছর পর বাড়িতে পা রেখেছি চমকে যাওয়ারই কথা।। আমি আমেরিকা থেকে বাড়ি আসিনি।খুলনার উদ্দেশ্যেই বাস ধরেছিলাম।
হারুন চাচা হলো আমাদের বাড়ির পুরনো কাজের লোক।বাড়ি দেখাশুনা করে। ওনার থেকেও অনেক তথ্য জানার আছে।আরেকটু দূরে যেতেই চাচিকে দেখতে পেলাম।একটা ছোট বাচ্চাকে খাবার খাওয়াচ্ছে। যদিও তিনি আপন চাচি নন। আমাদের গ্রামের বাড়ির অতিদরিদ্র একজন লোক খালিদ কাকা। গ্রামের বাড়িতে জীবনে একবার গিয়েছি।তাও ছয়, সাত বছর আগে। সেখানে তার সাথে পরিচয়। আব্বুর মৃত্যুপর ওনাকে এই বাড়িতে পার্মানেন্ট থাকতে আমি বলেছিলাম। আব্বুর রুম আর আমার রুম ছাড়া বাকি গুলো ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছিলাম। কেননা আব্বুর রুমের রহস্য আমার জানা অতি প্রয়োজনীয়। চাচি গ্রামের মেয়ে হলেও বাড়িটা বেশ গুছিয়ে রেখেছে। খালিদ চাচার বয়স বেশি না। আমার থেকে ৭,৮ বছরের বড় হবে।
--কেমন আছেন চাচি?
--আফনে!
--কেন আসতে পারি না?
-- কি যে কন? কেমন আছেন?
--ভালো। খালিদ চাচা কই?
--বাগানে পানি দেয় মনে হয়।
--আমার রুমটা একটু গুছিয়ে দেন কষ্ট করে। আমি বসলাম এখানে।
অনেকদিন পর বাড়িতে পা রেখে মনটা একটু অন্য রকম হয়ে গেলো। শৈশবের স্মৃতি গুলো মনের মাঝে হানা দিচ্ছে। মনে হচ্ছে সেদিনের ঘটনা।কিন্তু এক যুগেরও কত বেশি সময় কেটে গেছে। মনে হচ্ছে বাবা আমার পাশের সোফায় বসে আমার দিকে তাকিয়ে আছে চাতক পাখির মতো।আমার মুখ থেকে যদি একটু মায়াবী কন্ঠে আব্বু ডাকটা শুনে। কিন্তু আমি সেদিন কত কঠিন ছিলাম?শান্ত গলায় বাবার সাথে কথা বলিনি। আজকে হাড়িয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছে কত বড় ভুল করেছি আমি? বাবা আমার খারাপ কোনোদিন চায়নি। আমার ভালোই চেয়েছিল।
খালিদ চাচাও ইতিমধ্যে খবর পেয়েছে আমি এসেছি। এসেই তো আমাকে জরিয়ে ধরলো।
--কেমন আছত?
--জি চাচা ভালো।আপনি কেমন আছেন?
--আলহামদুলিল্লাহ ভালো। কখন আসলি? আমাগোরে কইলি না? ইয়াপোর্ট যাইতাম।
--আমি দেশে এসেছি অনেক আগেই।
--বাপের বাড়িতে আইতে মন চায় না?
--বাবা নেই, আসলে আরো কষ্ট হবে।তবে প্রথমদিনই আসতাম। একটু কাজে আটকে গিয়েছিলাম।
--আইচ্ছা তুই ফ্রেস হইয়া নে।আমি বাজার কইরা নিয়া আসি।
--টাকা নিয়ে যান।
--টাহা আমার কাছে আছে।
--এদিকে আসেন।আমার কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস লাগবে।নিয়ে আসতে হবে।।
বাবার রুমের দরজার লক খুলে ভিতরে প্রবেশ করলাম।লাইটের সুইচটা অন করলাম।সব কিছু আগের মতোই আছে। মনে হচ্ছে বাবা এখনো বিছানায় শুয়ে আছে। চোখের কোনে একটু একটু পানি জমতে শুরু করলো। ধপাস করে করে গিয়ে বিছানায় বসে পরলাম। শুধু শুধু সারাটা জীবন বাবাকে অবহেলা করেছি।বাবা বেঁচে থাকতেই আমার সত্যিটা জানার উচিৎ ছিলো।সব কিছুই শেষ হয়ে যাওয়ার পর আমার টনক নড়ে। রুমের দক্ষিণ দিকে অনেক বড় একটা বইয়ের লাইব্রেরি। বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ছিলেন। তাই বই বাবার খুব প্রিয় ছিলো।
খালিদ চাচাও রুমে আসলো।
--চাচা আপনারা আসার পর আর কেউ বাবার রুমে ঢুকেছিলো?
--হুমম।
--কে?
--আনাস না কি যেন নাম? কইছিলো সে নাকি তোর থেকে পারমিশন নিয়া আইছে
--কিছু নিয়ে গেছে কি?
--হুমম। লাইব্রেরি থেকে কিছু বই নিয়ে গেছে।
--ঠিক আছে।
রাত আটটা বাজে। আমি আর আনাস বসে আছি ওর বাড়ির ছাঁদে।ঢাকায় আসার পর থেকে আরো মোড অফ হয়ে আছে।
--যা হওয়ার হয়েছে। এখন সামনে কি হবে ভাব।
--আর কি ভাববো? এখনো বাবার মৃত্যুর রহস্যটা জানতে পারলাম না।
--ভাঙ্গা মোবাইলটা কোথায়?
--সাথেই আছে।
--আমার পরিচিত একজন দক্ষ মেকানিক আছে।সে ঠিক করতে পারবে।
--ডিসপ্লে কোথায় পাবো?
--কাল স্যামসাং মোবাইলের শু রুমে যাবো।
--ঠিক আছে।আচ্ছা তুই বাবার লাইব্রেরি থেকে কি নিয়েছিলি?
--তোর বাবার লিখা কিছু বই।আমি শুনেছিলাম ওনি লাষ্ট কিছু বছর গল্প উপন্যাস লিখে কাটিয়েছেন।
--কি পেলি সেখানে?
--সব গুলো বই পড়েছি।কিন্তু কোনোটার মাঝে তার বাস্তবের সাথে মিল পাইনি। তবে একটা পান্ডুলিপি সংগ্রহ করেছি। তিনি সেটা বই বের করতে সাহস পায়নি।আর সেটাতে ওনার ব্যাক্তি জীবনি লিখেছেন। যেভাবে লিখেছেন সেভাবেই ফেলে রেখেছিলেন লাইব্রেরির এক কোনায়। তবে এটা তিনি র্দীর্ঘদিন যাবত লিখছিলেন।
১০ দিন হলো পড়ে শেষ করলাম।
--আচ্ছা তুই এগুলো আমার অজানা রেখেছিস কেন?
--তোর মতো মাথা গরম করে কাজ করলে, জীবনে কিছুই করতে পারতাম না।তোকে বললেই সব উলট পালট করে ফেলতি সেই কবেই।
--আচ্ছা আব্বু আম্মুর ডিভোর্সের কারনটা উল্লেখ করেছিলো?
--হুমম।তবে সব থেকে আশ্চর্যের বিষয় হলো তোর আম্মু আবার তোর আব্বুর জীবনে আসতে চেয়েছিলো।
--সংক্ষেপে বলতো কি হয়েছিলো?
লেখক: নিহান আহমেদ আনিছ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Give your opinion, please!