ভালোবাসার শক্তি
পর্ব:-৫ (সিজন-২)
তান্ত্রিকের কবর খুড়ে তান্ত্রিককে পাওয়া গেলো না। মামুন বাড়ি ফিরে এলো। মামুনকে দেখে প্রিয়া মামুনের কাছে আসে।
--অয়ন আর আদির খবর পেয়েছেন?
মামুন ফ্লোরে বসে পড়ে।
--কি হয়েছে? ওদের খবর পান নি?
--না
--কোথায় গিয়েছিলেন?
--তান্ত্রিকের কাছে।
--তান্ত্রিক না মারা গেছে..!
--তান্ত্রিকের কবর খোড়া হয়েছে, কিন্তু লাশ পাওয়া যায়নি।
--কি বলছেন? কিভাবে?
--জানি না, আমার মনে হয় এই সব তান্ত্রিক করতেছে। আমাদের চোখে ধুলো দিয়ে ও অনিমার ক্ষমতা নিতে চাচ্ছে।
--কিন্তু উনি এসব কেনো করবেন? উনিতো আপনাকে বাচিয়েছিলো।
--আমার মাথায় কিচ্ছু ডুকছে না। কি হচ্ছে আমাদের সাথে?
--তাহলে কি আমার ছেলে আর আদিকে পাওয়া যাবে না?
--চিন্তা করো না, যতক্ষণ অনিমা আমাদের কাছে আছে, ততক্ষণ আদি আর অয়নের কিচ্ছু হবে না।
প্রিয়া মামুনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে।
অনিমাও রুমে শুয়ে শুয়ে কাঁদছে। একদিকে তার কলিজার আদরের ছোট ভাই, অন্য দিকে স্বামী আনিমা জানতো তাকে কেউ কষ্ট দিলে তার শান্তি হারাম হয়ে যায়, রেগে গিয়ে কিছু বললে সেটা বাস্তবে হয়ে যায়, কিন্তু বাবা বলছে বিয়ের পর নাকি সব শেষ হয়ে গেছে, এখন আর আগের মতো কোনো ক্ষমতা নেই। অনিমা চোখ মুছে উঠে দাড়ায়, তার বিশ্বাস সে অনয় আর আদিকে চাইলে নিশ্চই তারা ফিরে আসবে।
অনিমা দরজা বন্ধ করে ঘরের মাঝখানে বসে। মামুন আর প্রিয়া দৌড়ে অনিমার রুমের কাছে আসে। অনিমার রুম থেকে কিছু অন্যরকম শব্দ বের হচ্ছে। মামুনের বিশ্বাস হলো, অনিমার ক্ষমতা এখনো যায়নি। কেননা তান্ত্রিক মিথ্যা বলেছিলো। কিন্তু অনিমা ভেতরে কি করছে? ওর কোনো ক্ষতি হয়ে যায়নিতো? মামুন দরজা ধাক্কাতে থাকে। অনিমা দরজা খুলছে না। হঠ্যাৎ বাহির থেকে দরজায় টোকা পড়ে।
মামুন পেছনে এসে সদর দরজাটা খোলে। অয়ন আর আদি দাড়িয়ে আছে। প্রিয়া ছেলেকে দেখে চিৎকার দিয়ে এসে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে। প্রিয়ার চিৎকার শুনে অনিমা রুম থেকে বেরিয়ে আসে। অনিমা পুরো অবাক হয়ে যায়। তার মানে এখনো তার ক্ষমতা আছে। কিন্তু ওরা এভাবে নিচে তাকিয়ে আছে কেনো? কথা বলছেনা কেনো?
হঠ্যাৎ কবিরাজ ওদের পেছনে এসে দাড়ায়। কবিরাজকে দেখে মামুন আর প্রিয়ার চোখ কপালে উঠে যায়। একি? কবিরাজ না এক্সিডেন্ট করে মারা গিয়েছিলো? তাহলে ফিরে এলো কিভাবে? তান্ত্রিক কি সত্যিই বলেছিলো? কে সত্য? কবিরাজ নাকি তান্ত্রিক? মামুনের মাথা যেনো ঘুরছে?
--কি ভেবেছিলে তুমি? আমি মরে গেছি?(কবিরাজ)
--তুমি এখানে কি করে? তুমি না মারা গেছো?(মামুন)
--এতো সহজে? ৫ বছর যাবত অপেক্ষা করছি, সেটা কি এমনি এমনি?
--আমার ছেলে আর জামাইকে কেনো নিয়ে গেছিলে? কি চাও তুমি?
--তোমার মেয়েকে....
কবিরাজের এই কথা শুনে অনিমা ঘাবড়ে যায়।
--এটা অসম্ভব,,, অন্য কিছু চাও।
--আর কিচ্ছু না, শুধু তোমার মেয়েকে লাগবে। ওর শক্তিটুকু আমার চাই।
--দেবো, তবে আমার মেয়ের কোনো ক্ষতি হতে পারবে না।
--আপনি কি পাগল হয়ে গেলেন? ওরা খারাপ, এই শক্তি ওরা পেলে সব শেষ করে ফেলবে।(প্রিয়া)
--তুমি চুপ করে থাকো। আমি চাইনা আমার মেয়ের কোনো ক্ষতি হোক।
--তোমার মেয়েকে মরতে হবে।(কবিরাজ)
এটা শুনে মামুন কবিরাজের দিকে তেড়ে আসছিলো।
--ওখানে থাকো, যদি এক পা সামনে আসো তাহলে তোমার ছেলে আর জামাই শেষ(থলে থেকে দুইটা ছোট্ট পুতুল বের করলো) এই পুতুল দুটোতেই ওদের প্রান।
--শয়তান, তোকে আমি ছাড়বো না। (মামুন আবার তেড়ে গেলো কববিরাজের দিকে)
কবিরাজ একটা পুতুল চেপে ধরলো..
ওমনি আদি বুকে হাত দিয়ে ফ্লোরে বসে পড়লো, ওর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। অনিমা চিৎকার দিয়ে বিদ্যুৎ গতিতে গিয়ে কবিরাজের গলা চেপে ধরলো। কবিরাজ অনিমার চোখে কিছু একটা মেরে ওখান থেকে পালিয়ে যায়। মামুন অবাক চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে, কি করছে অনিমা? শান্ত স্বভাবের মেয়েটার এতো রাগ? সামান্য রাগের কারনে কবিরাজ এভাবে পালিয়ে গেলো? কবিরাজ কি অনিমাকে ভয় পেয়েছে? আদিকে আর অয়নকে বিছানায় আনা হলো। প্রিয়া আর অনিমা ওদের পাশে বসে কাঁদছে।
ডাক্তারকে খবর দেওয়া হলো। ডাক্তারের কথা শুনে সবাই অবাক। মেডিক্যালি ওরা পুরো ফিট, কারো কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আদি শুধু হাপাচ্ছে, শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। মামুন ভয় পেয়ে যায়, কবিরাজ কিছু একটা করেছে। কিন্তু এখন কবিরাজকে কোথায় পাবে? পেলেও কি লাভ হবে? ডাক্তার দিয়ে যখন কিছু হলো না, তখন যা করার নিজেদেরই করতে হবে। অয়ন পুরো সুস্থ, শুধু আদিরই সমস্যা। অনিমা আদির পুরো খেয়াল রাখছে, রাত দিন ওর সেবা করতেছে।
যেই অনিমা বাসর ঘরে স্বামীকে সারা রাত ব্যালকনিতে আটকে রেখেছিলো, সেই অনিমা এখন স্বামীর জন্য কাঁদছে, স্বামীর সেবা করছে। অনিমা নিজেও অবাক, কি করে তার এতোটা পরিবর্তন হলো। সে এখন আদির ওপর পুরোপুরি দূর্বল। অনিমা যতই ব্যস্ত থাকুক, আদি শুধু অনিমা বলে একবার ডাকলেই অনিমা সব ফেলে ছুটে আদির কাছে চলে আসে। প্রিয়া খুব হাসে, মেয়ে তাহলে বুঝেছে স্বামী কি। আদি মোটামুটি সুস্থ, তবুও মাঝে মাঝে হাপাতে থাকে। ডাক্তার একটা ঔষুধ দিয়েছে। হাপানি শুরু হলে যেনো ঔষুধটা খায়।
এক সকালে অনিমা মায়ের সঙ্গে রান্না করছিলো। আদির ডাকে অনিমা আদির কাছে ছুটে যায়। আদির শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। দুর্ভাগ্যবশত ঔষুধ শেষ হয়ে গিয়েছিলো। অয়নকে দোকানে পাঠায় ঔষুধের জন্য। কিন্তু এদিকে আদি প্রচন্ড হাপাতে থাকে। অনিমা কোনো উপায় না পেয়ে মুখে মুখ লাগিয়ে বাতাস দিতে থাকে। আদি অনিমার দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। কি করছে মেয়েটা?
বিয়ে হয়েছে ৩ মাস, দুজনেরই এটা ১ম _______
অনিমা খেয়াল করলো আদি শান্ত হয়ে গেছে। মুখ সরিয়ে যখন আদির দিকে তাকায়, দেখে আদি বুথ দেখার মতো করে অনিমার দিকে চেয়ে আছে। অনিমা বুঝতে পারে কি হয়ে গেছে, লজ্জায় দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসে।
--কিরে, মুচকি মুচকি হাসছিস কেনো?(প্রিয়া)
--না, কিছু না।
--কিছুতো হয়েছে। বল কি হয়েছে?
--ও তুমি বুঝবে না।
প্রিয়া মাথা চুলকাতে চুলকাতে ভাবছে.... এমন কি হয়েছে যেটা আমি বুঝবো না......!
--আপু, এই যে দুলাভাইর ঔষুধ (অয়ন)
--দে...
অনিমা ধীরে পায়ে আবার রুমে আসে, আদি ব্যালকনিতে দাড়িয়ে ফোনে কথা বলছে। অনিমা পেছন থেকে গলার আওয়াজ দিলো। আদি তড়িঘড়ি করে ফোনটা পকেটে ঢুকালো।
--ভয় পেয়েছেন?(অনিমা)
--হুম
--এই যে আপনার ঔষুধ
আদি ঔষুধের দিকে চেয়ে মুচকি মুচকি হাসছে। অনিমা হাসির কারনটা ঠিকই বুঝতে পারে।
--হাসছেন যে?
--এমনিই(আদি ঔষুধ নিয়ে বাহিরে ফেলে দিলো)
--একি? ঔষুধ ফেলে দিলেন কেনো?
--এই ঔষুধে আমার আর কিছুই হবে না।
--কোন ঔষুধ লাগবে?
--আমার ঔষুধ আমার সামনেই আছে। যদি এই ঔষুধ পাই, তাহলে বাচবো, নাহলে.......
--আম্মুউউউ...........(বলেই প্রিয়ার দিকে চলে আসে)
আদি নিজের মুখ নিজেই ধরে রাখছে...
কি বলে দিলাম মেয়েটাকে.... এটা যে বাচ্চা আমার মাথায় ছিলো না। এখন গিয়ে যদি শাশুড়িকে বলে মান ইজ্জত সব শেষ।
আদি কানে ফোন লাগিয়ে সোজা বাহিরে চলে গেলো।
--কিরে? চেঁচাচ্ছিস কেনো?(প্রিয়া)
--কই? এমনিই... দেখছি গলা ঠিক আছে কিনা।
--গাধী কোথাকার.......
এভাবে ১সপ্তাহ চলে যায়। আর কোনো সমস্যা হয়নি। তবে মামুনের একটাই ভয়, যদি আবার কবিরাজ আসে, যদি কারো কোনো ক্ষতি করে দেয়। তান্ত্রিক বলেছিলো মেয়ের বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে। সত্য কি মিথ্যা কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। আদি ছেলেটার কি দোষ? ও তো এসবের কিছুর মধ্যেই ছিলোনা। তান্ত্রিকের কথামতো বিয়ে দিয়ে ছেলেটাও এখন বিপদে। আদি এসব ব্যাপারে একদম মাথা ঘামায় না, খুবই শান্ত স্বভাবের মানুষ। যার কারনে সবার কাছে ও খুব প্রিয়। একদিন সকালে মামুন খবরের কাগজ পড়ছিলো, পত্রিকার একটা ছবি দেখে মামুন ওখানেই আটকে যায়।
--প্রিয়া......
--...........
--প্রিয়া.......
প্রিয়া দৌড়ে আসে....
--কি হয়েছে?
--এই দেখো পত্রিকায় কি দিয়েছে।
--কি দিয়েছে?
--দেখোই না....
--এটা তো তান্ত্রিকের ছবি, কি হয়েছে?
--আমি যে বলেছিলাম তান্ত্রিকের লাশ পাওয়া যাচ্ছে না, লাশ পাওয়া গেছে।
--কোথায়?
--দুজন চোর এই লাশটা কবর থেকে তুলে নিয়ে গেছিলো, কাল পুলিশ ওদের এরেস্ট করেছে।
--কি বলছেন? কেনো লাশ চুরি করবে?
--উনিতো তান্ত্রিক ছিলেন, এবং ওনার মৃত্যুটা ছিলো অস্বাভাবিক, তন্ত্র সাধনার জন্য অন্য তান্ত্রিকরা এই ধরনের লাশ ব্যবহার করে। তাই এই চোর দুটোকে টাকা দিয়ে লাশটা চুরি করিয়েছে।
--ছিঃ একটুও মায়াদয়া নাই ওদের... কি জামানা আসলো, লাশও চুরি হয়।
--জানো প্রিয়া, আমার একটা সন্দেহ হচ্ছে.
--কি সন্দেহ?
--তান্ত্রিক সত্যিই মারা গেছে। এর মানে তান্ত্রিকের কথা গুলো মিথ্যে নয়।
--তাহলে এখনো আমাদের মেয়ের ক্ষমতা শেষ হয়নি কেনো?
--এটাই তো এখনো আমার মাথায় আসছে না। বলেছিলো বিয়ের পর অনিমার ক্ষমতা শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু এখনো ক্ষমতা আছে।
--মনে হয় উনি মিথ্যে বলেছে।
--না, যদি মিথ্যে হতো, তাহলে কবিরাজ যে মারা যায় নি, এটা কিভাবে তান্ত্রিক জানতো? অনিমার ওপর যে হামলা হয়েছে এটা কিভাবে জানতো?
--আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা। তাহলে কি কবিরাজ আমার মেয়ের কোনো ক্ষতি করে ফেলবে?
--না
--তাহলে এসব কেনো করছে?
--যোযোর জন্য।
--মানে?
--তান্ত্রিক বলেছিলো অনিমার শত্রু কেবল যোযো, কবিরাজ হলো মাধ্যম... কবিরাজই জানে এই যোযোর ব্যাপারে। কে এই যোযো? দেখতে কেমন? কিছুই জানিনা। আমার মেয়ের কোনো ক্ষতি হওয়ার আগে এই যোযোকে খুজে বের করতেই হবে।..............
লেখক :- আবদুল্লাহ আল মামুন
(গল্পটি কেমন লাগলো তা কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না যেন!!)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Give your opinion, please!